image

রাজস্বখাত ও রাজস্বখাত ব্যতীত প্রতিষ্ঠানের অবসর পরবর্তী সুযোগ সুবিধা

#রাজস্বখাতের অবসর পরবর্তী কিছু সুবিধা:

#জিপিএফ(GPF)- General Provident Fund:

শিক্ষানবিশ কালে জিপিএফ কর্তন বাধ্যতামূলক নয় তবে চাইলে কাটাতে পারবেন। একজন চাকুরীজীবি ৫-২৫% পর্যন্ত টাকা জিপিএফ ফান্ডে জমা রাখতে পারবে এবং সম্পূর্ণ টাকা অবসরের সময় ১৩% সুদসহ ফেরত পাবেন।জিপিএফ এ আপনার টাকাই জমা থাকবে এখানে সরকার/প্রতিষ্ঠান আপনাকে কোন টাকা দিবে না।এই টাকা আপনার নিজের জমানো টাকা। নতুন যোগদানকৃত কেউ চাকরি ছেড়ে দিলে এই টাকা চাইলেই প্রতিষ্ঠান আপনাকে দিয়ে দিবে।

 

#ল্যামগ্রান্ড
যখন কোন কর্মকর্তা/কর্মচারী ২৫ বছর চাকরির পর অবসরে যায় তখন তার ছুটি পাওনা সাপেক্ষে সর্বোচ্চ ১৮ মাসের মূল বেতন একসাথে পেয়ে থাকেন। একজন চাকুরীজীবি প্রতি ১১ দিনে পূর্ণগড় বেতনে ১ দিন এবং প্রতি ১২ দিনে অর্ধগড় বেতনে ১ দিন ছুটি অর্জন করে।এভাবে সর্বোচ্চ  ৩০*১৮=৫৪০ দিন অর্জিত ছুটির টাকা  সে অবসরের সময় পেয়ে থাকে। এটাই ল্যাম্পগ্রান্ট হিসেবে পরিচিত। যে ছুটি সে চাকরি জীবনে অর্জন করেছিল তার থেকে সর্বোচ্চ ১৮ মাসের ছুটি সে বিক্রি করতে পারবে।
উদাহরণ: যদি তার সর্বশেষ বেসিক ৫০,০০০ টাকা হয় তাহলে সে ল্যাম্পগ্রান্ট বাবদ পাবে ৫০,০০০*১৮=৯,০০,০০০ টাকা।

 

#আনুতোষিক(গ্রাচুইটি) ও পেনশন 
২৫ বছর চাকরি করার পর একজন কর্মকর্তা/কর্মচারী মুল বেতনের ৯০% টাকার উপর পেনশন ও আনুতোষিক হিসেব করা হয়। ২৫ বছর চাকরি করলে পাবে ৯০%, ২৪ বছরে পাবে ৮৭%। এটার একটা তালিকা আছে সেখানে বিস্তারিত বলা আছে। 

 

#আনুতোষিক গণনা:

যদি কেউ ১৪ বছর চাকরি করে তাহলে সর্বশেষ মুল বেতনের ১ টাকার বিপরীতে পাবে ২৬০ টাকা, যদি কেউ ১৯ বছর চাকরি করে তাহলে ১ টাকার বিপরীতে পাবে ২৪৫ টাকা এবং যদি কেউ ২০ বা তার বেশি বছর চাকরি করে তাহলে ১ টাকার বিপরীতে পাবে ২৩০ টাকা।আমরা যেহেতু চাকরিকাল ২৫ বছর ধরে করেতেছি তাহলে একজন চাকুরীজীবির আনুতোষিক হবে নিন্মরুপ:

যদি সর্বশেষ বেসিক ৫০০০০ টাকা  এবং চাকরিকাল ২৫ বছর, তাহলে আনুতোষিকের পরিমাণ: 
আনুতোষিক-৫০০০০*৯০/১০০*২=২২৫০০
২২৫০০*২৩০=৫১৭৫০০০

 

#পেনশন:

২২৫০০ টাকা প্রতি মাসে পাবেন আজীবন। 
ব্যাখ্যা: সর্বশেষ মুল বেতনের ৯০% কে দুই দিয়ে ভাগ করে যেই টাকা আসে সেই পরিমাণ টাকা প্রতি মাসে পেনশন বাবদ পাবেন। চাকরিজীবী মারা গেলে তার স্ত্রী এবং তার স্ত্রী মারা গেলে প্রতিবন্ধী সন্তান আজীবন এই পেনশন সুবিধা পাবেন।একজন সরকারি চাকুরিজীবী ৫ বছর চাকরি করলেই পেনশনের যোগ্য হন। তবে ৫ বছর পর কেউ যদি দুর্ঘটনাজনিত কারণে অক্ষম হন তাহলেই পেনশন সুবিধা পাবেন অন্যথায় পাবেন না। 

 

#রাজস্বখাত ব্যতীত প্রতিষ্ঠানের অবসর পরবর্তী কিছু সুবিধা:
#ল্যামগ্রান্ড- একদম সেম রাজস্বখাতের মত।

 

#সিপিএফ(CPF)-

Contributory Provident Fund. এখানেও আপনি মুল বেতনের  নির্দিষ্ট পরিমান টাকা জমা রাখতে পারবেন। আপনি যত টাকা সিপিএফ ফান্ডে জমা রাখবেন প্রতিষ্ঠানও আপনাকে সেই পরিমান টাকা আপনার একাউন্টে জমা দিবে। আপনার এবং প্রতিষ্ঠানের সম্মিলিত টাকা অবসরের সময় একটা নির্দিষ্ট হার সুদে ফেরত পাবেন।আপনার প্রতিষ্ঠানের নীতিমালায় লেখা থাকবে কত পার্সেন্ট CPF জমা করতে হবে। 

 

#আনুতোষিক(গ্রাচুইটি)

এসব প্রতিষ্ঠানে ২৫ বছর চাকরির পর সর্বশেষ মুল বেতনের ২ বা ২.৫ গুন হারে যত বছর চাকরি করেছেন সেটাকে গুন দিয়ে যেই টাকা আসে সেই পরিমাণ টাকা একসাথে পাবেন।কত গুন হারে আনুতোষিক পাবেন এটা আপনার প্রতিষ্ঠানের কর্মচারী প্রবিধানমালাতে উল্লেখ আছে।

উদাহরণ: কেউ যদি ২৫ বছর চাকরি করে এবং মুল বেতন যদি ৫০০০০ টাকা হয় তাহলে তার আনুতোষিক হবে নিম্নরুপ:
২৫*২*৫০০০০=২৫,০০০০০

 

#পেনশন:

বেশিরভাগ স্ব-শাসিত, স্বায়ত্তশাসিত, সংবিধিবদ্ধ  প্রতিষ্ঠানে পেনশন নাই তবে কিছু কিছু প্রতিষ্ঠানে পেনশন আছে যেমন: বিসিআইসি, বাংলাদেশ হাউস বিল্ডিং ফাইন্যান্স করপোরেশন, বাংলাদেশ ব্যাংক। এই সকল প্রতিষ্ঠান সরকারের পূর্বানুমতি নিয়ে পেনশন চালু করতে পারে। এসব প্রতিষ্ঠানে পেনশন চলমান থাকলে রাজস্বখাতের মত পেনশন পাবেন।

 

একজন চাকুরীজীবি ২৫ বছর চাকরি করলে সকল সুবিধা প্রাপ্য হয় বিধায় ২৫ বছরকে উদাহারণ হিসেবে দেখানো হয়েছে।

বি:দ্র: ভুল ত্রুটি হলে ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন।

 

মূল লেখকঃ মো: সাদ্দাম হোসেন, সহকারী পরিচালক (ট্যারিফ), বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন।